আজও গান্ধীজীর পিছু ছাড়ছে না দুস্কৃতিকারীরা!

আজও গান্ধীজীর পিছু ছাড়ছে না দুস্কৃতিকারীরা!

রয়েল ভিউ ডেস্ক : 
পরাধীনতার নিরন্ধ্র অন্ধকারে অসহায় নিপীড়িত মানুষের দুঃসময়ে তিনি নিয়ে এলেন মুক্তির বার্তা । দিশেহারা পথভ্রান্ত মানুষকে দীক্ষিত করলেন নবজীবনের মহামন্ত্রে ,ভারতবর্ষের আপামর জনতাকে তিনি জাতীয়তাবাদের প্রবল উন্মাদনায় মাতিয়ে তুললেন ।

সেই নবজাগ্রত জাতির হাতে তিনিই তুলে দিলেন ‘অহিংসা’ নামক অমোঘ এক অস্ত্র । তিনি আর কেউ নন, তিনি ভারতবাসীর সর্বজনপ্রিয়, জাতির জনক এবং অন্যতম দেশনায়ক মহাত্মা গান্ধী ।  সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু হতে আজ একবিংশ শতাব্দিতে এসেছেও যেনো তাঁর পিছু ছাড়ছে না দুস্কৃতিকারীরা! 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গান্ধীমূর্তি স্থাপন করেছে দেশটির সরকার। মূর্তির গলা কাটার চেষ্টা করেছে অজ্ঞাত হামলাকারীরা।

কিছুদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ব্রোঞ্জের তৈরি মূর্তিতি উপহার দিয়েছিল ভারত সরকার। গত শুক্রবার মেলবোর্নে রীতিমতো উৎসব করে সেই গান্ধীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মেলবোর্নের অদূরে অস্ট্রেলিয়ান-ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টারে এটি স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসি প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী অ্যালেন টাজ, ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বিরোধী নেতা ম্যাথিউ গাই, ভারতের কনস্যুলেট জেনারেল রাজ কুমার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ব্রোঞ্জ মূর্তিটি কালো রঙের।

ভিক্টোরিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার উদ্বোধনের পর পরই কে বা কারা মূর্তিটির ওপর হামলা চালায়। রীতিমতো যন্ত্রপাতি নিয়ে এসে সেটি গলা কাটার চেষ্টা করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়নি। মূর্তির অবশ্য ক্ষতি হয়েছে। গলার কাছে স্পষ্ট কাটা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তিনি দুঃখিত ও বিচলিত। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়া মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। সব ধরনের মানুষ একত্রে এখানে বাস করেন। সবাই সবার সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়। যারা এই কাজ করেছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

ভিক্টোরিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দারাও তদন্তে নেমেছে। দ্রুত অপরাধীদের আটক করা সম্ভব হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ঘটনায় বিচলিত অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়রাও। ভিক্টোরিয়ায় ভারতীয় অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সূর্যপ্রকাশ সোনি জানিয়েছেন, ‘ভারতীয়রা এই ঘটনায় অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছে। আশা করছি, প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের ধরতে পারবে।’

অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের প্রধান ভাসান শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, মূর্তির বেশ খানিকটা ক্ষতি হয়েছে। তবে তা সারিয়ে ফেলা হবে। এরইমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে একটি গান্ধীমূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। সেখানেও মূর্তি ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। পরে জানা গিয়েছিল, ভারতের স্বাধীনতাকামী শিখদের একটি দল ওই কাজ করার চেষ্টা করে। ক্যালিফোর্নিয়াতেও গান্ধীমূর্তির ওপর হামলা হয়েছে কিছুদিন আগে। সূত্র: ডিডাব্লিউ।