আজ বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস

আজ বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস আজ। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি উপলক্ষে তেমন কোন কর্মসূচি থাকছে না। ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগের সদস্য হিসেবে হাইপারটেনশন কমিটি অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ ২০০৬ সাল থেকে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করে আসছে।

চলতি করোনা মহামারিতে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সোমবার দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৭-১৮’ এর হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ৪ জনে ১ জন উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগছেন। হার্ট সুস্থ রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এবং সুস্থ জীবন-যাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এক্ষেত্রে খাদ্যদব্য থেকে ট্রান্সফ্যাট নামক বিষাক্ত কেমিক্যাল নির্মূল হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভি গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্বজুড়েই উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষ উচ্চ রক্তচাপকে হাইপারটেনশন বা হাই ব্লাড প্রেসার নামেই জানে। এটি একটি জটিল শারীরিক অবস্থা। ধমনিতে রক্তপ্রবাহের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার অব মার্কারি। কারো রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিলিমিটার অব মার্কারি বা এর চেয়ে বেশি হলে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলে ধরে নেয়া হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। আর এই রোগে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ৭৬ লাখ মানুষ।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপের পরিণতিতে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি বিকলতায় মানুষের মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস ২০২১ উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞা’র (প্রগতির জন্য জ্ঞান) নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, আমাদের দেশে অসংক্রামক রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। খাদ্যে টান্সফ্যাট নির্মূল নিঃসন্দেহ সরকারের জন্য একটি ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ। এটি একদিকে যেমন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাবে, অন্যদিকে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখবে।