চোখই বলে দেবে ‘লং কোভিড’

চোখই বলে দেবে ‘লং কোভিড’

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হলেও রোগীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিছু লক্ষণ থেকেই যায়। এর মধ্যে রয়েছে ব্রেনে ধোয়াশা, মাথাব্যথা, অবসন্নতা, স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি হারানো এবং আরো অনেক কিছু। এসব ছাড়াও অনেক লক্ষণ আছে, যা খালি চোখে দেখা যায় না। এসব লক্ষণযুক্ত ব্যক্তির করোনাকে বলা হয় ‘লং কোভিড’। অনলাইন সায়েন্স এলার্ট এ খবর দিয়ে আরো জানাচ্ছে- নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো রোগী লং কোভিডে আক্রান্ত কিনা তা তার চোখ দেখেই যথার্থভাবে বলে দেয়া যায়। কারণ, লং কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এই স্নায়ুর ক্ষতি দেখা যায় কর্নিয়ার ওপরেই। কর্নিয়া হলো চোখের উপরিভাগে স্বচ্ছ একটি পর্দা।

সে চোখের আইরিশ এবং পিউপিলকে ঢেকে সুরক্ষিত রাখে। চোখের জন্য ক্ষতিকর নয় এমন একটি লেজার প্রযুক্তি, যার নাম কর্নিয়াল কনফোকাল মাউক্রোস্কোপি (সিসিএম) ব্যবহার করে কর্নিয়ায় এই স্নায়ুর ক্ষতি শনাক্ত করা সম্ভব। বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে চোখের কর্নিয়ার অস্বাভাবিকত্ব শনাক্ত করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন গবেষকরা। এসব রোগের মধ্যে আছে ডায়াবেটিস, ধমনীতে কাঠিন্য এবং ফাইব্রোমায়ালজিয়া। এসব রোগেও চোখের স্নায়ুর ক্ষতি হয়। নতুন গবেষণায় গবেষকদল একই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। তারা দেখার চেষ্টা করেছেন সিসিএম ব্যবহার করে কর্নিয়ার কোনো ক্ষতি শনাক্ত করা যায় কিনা। লং কোভিডের কারণে যে ডেনড্রাইটিক কোষ বৃদ্ধি পায় তারা সেই বিষয়গুলোও পরীক্ষা করেছেন। গবেষকরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন এমন ৪০ জন রোগীর ওপর চালানো পরীক্ষার ফল তুলনা করেছেন, ৩০ জন সুস্থ ব্যক্তির ওপর- যারা করোনায় আক্রান্ত হননি।
গবেষকদের মতে, সিসিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে লং কোভিড শনাক্ত করায় সহায়ক হতে পারে। তুরস্কের নিচেমেত্তিন এরবাকান ইউনিভার্সিটির গবেষক ও গবেষণার প্রথম লেখক গুলফিদান বিতিরজেন বলেছেন, আমাদের জানামতে, কর্নিয়ার ক্ষতি নিয়ে এটাই প্রথম গবেষণা।