দেশে নারীরা কাজি হতে পারবেন কি না জানা যাবে ৪ এপ্রিল

দেশে নারীরা কাজি হতে পারবেন কি না জানা যাবে ৪ এপ্রিল

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্ট।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হতে পারবেন না মর্মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ৪ এপ্রিল ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
পরে অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ জানান, নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হতে পারবে না- হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৪ এপ্রিল ধার্য করে দিয়েছেন।
আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই বলেছেন, এটা জাতীয় ইস্যু, শুনানি হওয়া উচিত। তখন আদালত বলেছেন, ৪ এপ্রিল এটা কার্যতালিকায় টপে থাকবে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। দিনাজপুরের এক নারীর রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট খারিজ করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রকাশ করেন।
রায়ে বলা হয়, নারীরা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় ফিজিক্যাল ডিসকোয়ালিফেশন থাকেন। মুসলিম বিবাহ হচ্ছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আমাদের দেশে বেশির ভাগ বিয়ের অনুষ্ঠান হয় মসজিদে। ওই সময়ে নারীরা মসজিদে প্রবেশ করতে পারেন না এবং তারা নামাজও পড়তে পারে না। সুতরাং বিয়ে যেহেতু একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নারীদের দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়।
আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, একজন নারী একজন মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হতে হলে কিছু কিছু কার্যক্রম করতে হয়। নারী হিসেবে সব জায়গায় যেতে পারবেন কি না। রাত বিরাতে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে যেতে পারবেন না। আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে নারীদের প্রত্যেক মাসে একটি বিশেষ সময় আসে যে সময়টাতে ধর্মীয়ভাবেই নারীরা মসজিদেও যেতে পারেন না। আবার নামাজও পড়তে পারেন না। এই রকম সময় যদি কারো বিয়ের অনুষ্ঠান হয়, সেখানে তো কোনো নারী যেতে পারবে না। অন্যান্য পাবলিক অফিসে নারীরা যে কাজ করেন, আর ম্যারেজ রেজিস্ট্রার হিসেবে কার্যক্রমটা আলাদা। বিয়ে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বলে মন্তব্য করেন আদালত।
পরে এই হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে ফাউন্ডেশন ফর ল’অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পক্ষে সংগঠনটির চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
রিটকারী আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়িয়ার পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে তিন জন মহিলার নাম প্রস্তাব করেন উপদেষ্টা কমিটি। তিন সদস্যর এই প্যানেল আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
২০১৪ সালের ১৬ জুন আইন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে নারীদের দ্বারা নিকাহ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়’ মর্মে চিঠি দিয়ে তিন সদস্যর প্যানেল বাতিল করেন। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন নিকাহ রেজিস্ট্রারের প্যানেলে এক নম্বর ক্রমিকে থাকা আয়েশা সিদ্দিকা।
রিটের শুনানি নিয়ে আদালত ‘আইন মন্ত্রণালয়ের চিঠি কেন বাতিল করা হবে না’ এই মর্মে রুল জারি করেন। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিট আবেদন খারিজ করে দেন।