যে কারণে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুল ডে’

যে কারণে পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুল ডে’

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল পালিত হয় ‘এপ্রিল ফুল ডে’। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা ও মজায় কাটানোর দিন এটি। ‘এপ্রিল ফুল ডে’র সূচনা সম্পর্কে নানান ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। মনে করা হয়, ইউরোপে প্রথম এই দিনটি পালিত হয়েছিলো। তারপর বিশ্বের নানান অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ঐতিহাসিকদের মতে, পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগারি দ্বারা জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করার পরই এপ্রিল ফুল ডে পালিত হতে শুরু করে। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৫৮২ সালে প্রথমবার পহেলা জানুয়ারি থেকে নববর্ষ শুরু হয়। এর আগে মার্চের শেষে নববর্ষ পালিত হত। সেক্ষেত্রে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ এপ্রিল হতো বছরের প্রথম দিন।
মনে করা হয়, জুলিয়নের পরিবর্তে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারের সূচনা সত্ত্বেও নতুন ক্যালেন্ডার কেউ মেনে নিতে চাননি। তার পরিবর্তে ১ এপ্রিলেই নববর্ষ পালন করতে থাকেন প্রাচীনপন্থীরা। ফ্রান্সই প্রথম দেশ যে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার স্বীকার করেছিলো।
এরপর থেকেই প্রচারিত হতে শুরু করে যে, যারা জর্জিয়ান ক্যালেন্ডারকে অমান্য করে ১ এপ্রিলে নববর্ষ পালন করবে, তাদের বোকা বলা হবে। পাশাপাশি তাদের মজার পাত্র করে তোলা হবে। এরপর থেকেই ১ এপ্রিল, এপ্রিল ফুল ডে হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
অন্য দিকে কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, এপ্রিল ফুল ডে আবার ‘হিলারা’ নামক উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এই ল্যাটিন শব্দটির অর্থ আনন্দদায়ক। এপ্রিল ফুল ডে আবার ভারতীয় উৎসব হোলির কাছাকাছি সময়েও পালিত হয়। এ সময় বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে রঙের খেলার মাধ্যমে হাসিঠাট্টায় মজে ওঠেন সকলে।
আবার পারস্যের উৎসব সিজদাহ বেদার ও জিউয়িসদের পুর্ণিমের সঙ্গেও এপ্রিল ফুল ডের সাদৃশ্য খুঁজে পান অনেকে।
আবার জিওফ্রে চসার তার চতুর্দশ শতাব্দীর ‘দ্য ক্যান্টেরবারি টেলস’তে ৩২ মার্চ বা ১ এপ্রিলের উল্লেখ করেছেন। এই সংগ্রহের একটি গল্প ‘নান্স প্রিস্টস টেল’তে উল্লিখিত রয়েছে যে, রাজা দ্বিতীয় রিচার্ড ও বোহেমিয়ার রানী অ্যানির এনগেজমেন্টের তারিখ ৩২ মার্চ ঘোষিত হয়। জনসাধারণ সেই ঘোষণাটিকে সত্য মেনে বিশ্বাস করে নেন। তখন থেকে ৩২ মার্চ অর্থাৎ ১ এপ্রিল, এপ্রিল ফুল ডে হিসেবে পালিত হতে শুরু করে।
কোনো ছুটি না থাকলেও এই দিনটি নানান দেশে নানান ভাবে পালিত হয়ে আসছে। নিউজিল্যান্ড, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুপুর পর্যন্তই এ ধরণের মজা-ঠাট্টা করা যায়। দুপুরের পর যারা ঠাট্টা করেন, তাদের এপ্রিল ফুল বলা হয়।
এছাড়া ফ্রান্স, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ব্রাজিল, কানাডা ও আমেরিকায় সারাদিন প্র্যাঙ্ক করে কাটানো যেতে পারে।