শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ

শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস আজ

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
জরুরি অবস্থা জারির মধ্য দিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশের ক্ষমতায় আসে। সেনা-সমর্থিত সেই সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের বিতর্কিত নানা উদ্যোগ নিলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকার নামে কুখ্যাতি পাওয়া সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কুশীলবেরা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ দুই নেতাকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। 

এরই ধারাবাহিকতায় কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির সুধা সদন থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবছর এই দিনটিকে ‘শেখ হাসিনার কারাবন্দী দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র অবরুদ্ধ দিবস’ হিসেবেও পালন করে থাকে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের মতো এবারও বড় কোনো কর্মসূচিতে না গিয়ে সীমিত পরিসরে দিনটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগে একাধিক মামলা করে সরকার। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে রাখা হয় জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে। সংসদ ভবন চত্বরে অস্থায়ী আদালতে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। কিন্তু শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে জরুরি অবস্থার মধ্যেই দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর বাড়তে থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ।

এদিকে কারাগারে শেখ হাসিনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জন্য শেখ হাসিনাকে জামিন দিতে বাধ্য হয় সরকার। মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান শেখ হাসিনা। চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ৬ জুন দেশে ফেরেন। পরে ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপরের দুই নির্বাচনে জিতে বর্তমানে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করবে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী–ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো। 
এ ছাড়া জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।