সুন্দরবন উজার করে জলবায়ু সম্মেলনে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর স্ববিরোধী কাজ : রিজভী

সুন্দরবন উজার করে জলবায়ু সম্মেলনে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর স্ববিরোধী কাজ : রিজভী

রয়েল ভিউ ডেস্ক :

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সুন্দরবন উজার করে রামপালে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়াটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্ববিরোধী কাজ।  

সোমবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকা জেলা বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সম্মেলনে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে গেছেন। বাহ্, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বায়ু দূষণের শহর হচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের সকল বিরোধীদল, পরিবেশবাদীরা, নাগরিক সংগঠন সবাই বলেছে, বাগেরহাটের রামপালে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারত, যাদের কাছ থেকে কয়লা এনে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তাদের দেশেও কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় না। যে প্রধানমন্ত্রী তার নিজের দেশের সুন্দরবন উজার করে দেওয়ার জন্য রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেন, তিনি যাচ্ছেন গ্লাসগোতে পরিবেশের সম্মেলনে। বাংলাদেশের শহরগুলো বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার। বাংলাদেশ বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার, এখানে গাছ-মাছ-পানি উনি উজার করে দিচ্ছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, আওয়ামী লীগ সহিঞ্চু বলে বিএনপি রাজনীতি করতে পারছে। তার এই বক্তব্যটাই হচ্ছে অসহিঞ্চু। আওয়ামী লীগ সহিঞ্চু না অসহিঞ্চু তার ওপর অন্যদের রাজনীতি নির্ভর করবে, এই কথাটাই হলো নাৎসীবাদী কথা। এই কথাটিই হচ্ছে একটা ফ্যাসিবাদী কথা। এই কথাটিই হচ্ছে একটি গণবিরোধী কথা।

রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত ওপরের দিকে বাড়ছে। চাল-ডাল-তেলের দামতো বাড়ছে। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আবার কয়দিন আগে প্রস্তাব করেছে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করবে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করলে এটার চেইন রিঅ্যাকশন হয়, চাষ-বাস, খেত খামার, প্রত্যেকটিতে গিয়ে আঘাত করে। তার মানে সামনে আবার প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ানো হবে। ভারতের সঙ্গে এত খাতির, এত প্রেম থাকার পরও কেন চাল বন্ধ করে দিয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর কি ওবায়দুল কাদের দিতে পারবেন, প্রধানমন্ত্রী দিতে পারবেন?

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বাবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বিএনপি নেতা তমিজ উদ্দিন আহমেদ, সুলতানা আহমেদ ও নিপুন রায় চৌধুরী।