সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ভিজিডির চাল বস্তা প্রতি কম দেওয়া হচ্ছে ৩ কেজি!

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ভিজিডির চাল বস্তা প্রতি কম দেওয়া হচ্ছে ৩ কেজি!

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
ধর্মপাশায় খাদ্যগুদাম থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তায় ২৬-২৭ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার দুপুরে ওই খাদ্যগুদাম থেকে উপজেলার সুখাইর-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ডেলিভারি দেওয়ার সময় স্থানীয় দুজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিটন মিয়া ডেলিভারিকৃত ৩০ কেজি ওজনের ৫টি বস্তা মিটারের মাধ্যমে ওজন করলে প্রত্যেকটি বস্তাতেই আড়াই কেজি থেকে ৩ কেজি করে চাল কম থাকার সত্যতা পাওয়া যায় এবং এ বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ উপস্থিত সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে জানান। তবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা এ সময় কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও এ সময় খাদ্যগুদামের দুইজন অফিস সহকারী ও লেবার সর্দারসহ তার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে ইউপি সচিব লিটন মিয়া বলেন, উপজেলার সুখাইর-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ৯৩ জন হত-দরিদ্র কার্ডধারী রয়েছেন। প্রতি মাসে তাদের প্রত্যেক কার্ডধারীকে ৩০ কেজি ওজনের এক বস্তা করে চাল দিয়ে আসছিলাম। তবে ওইসব কার্ডধারীদের জন্য প্রতি মাসে খাদ্যগুদাম থেকে ওজন না দিয়েই ৩০ কেজি ওজনের ইনটেক বস্তা দিয়ে দেন এবং গুদাম থেকে আমাদেরকে যেভাবে দেওয়া হয় আমরাও সেভাবেই ওইসব বস্তা খাদ্যগুদাম থেকে নিয়ে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করে আসছি। তবে ওইসব চালের বস্তায় যে আড়াই থেকে ৩ কেজি করে চাল ওজনে কম দেওয়া হতো আজকে ওজন না করলে তা কোনোদিন জানতে পারতাম না। তবে আমি বিষয়টি ইউএনও স্যার ও চেয়ারম্যান স্যারকে জানানোর পর তারা আমাকে সঠিকভাবে চাল ওজন করে বুঝিয়ে দিয়েছে।

উপজেলার সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আমানুর রেজা চৌধুরী বলেন, গুদাম থেকে চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিক আমার পরিষদের সচিব আমাকে জানিয়েছে। দরিদ্রদের চালের বস্তায় চাল ওজনে কম থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য গুদাম থেকে যে চাল ডেলিভারি দেওয়া হয়েছিল তা গত এক বছর আগের মজুতকৃত চাল বিধায় ওইসব বস্তায়  ওজনে কিছু চাল কম হয়েছে। তবে পরে ঘাটতি হওয়া চাল পূরণ করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (অতিরিক্ত) দায়িত্বে থাকা বিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, ভিজিডির চালের বস্তায় চাল  ওজনে কম থাকার প্রশ্নই আসে না। তবে আমি এ বিষয়ে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাকে সতর্ক করব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনতাসির হাসান বলেন, খাদ্যগুদাম থেকে ভিজিডির  চাল ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।