সিলেটে বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী

সিলেটে বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্টার: সিলেটের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ অফিসকে অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া উল্লেখ করে তা মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সিলেট বিআরটিএ অফিস দুবার ভিজিট করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি সিন্ডিকেটের কবলে বন্দি হওয়া অফিসটি অনিয়মের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। একটি দুষ্টচক্র মাথাচাড়া দিয়ে জনগণের হয়রানির কারণ হচ্ছে। এরাই বাইরের দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়।’

গতকাল রোববার সকালে সিলেট জোন, বিআরটিসি ও বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে সভায় যুক্ত হন।

ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মালেক, সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষারকান্তি সাহা। উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের তত্ত্বাবাধায়ক প্রকৌশলী উৎপল সামান্ত, নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও সিলেট বিআরটিএ অফিসের ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় বিআরটিসি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিআরটিএ’র যেসব গাড়ি আছে, সেগুলো যথাযথ মেরামত হয় কিনা তা দেখা হয় না। নতুন গাড়ি কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা যায় অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। ভেতরে ছাল বাকল থাকে না। জানালায় গ্লাস থাকে না। এসি ফ্যান চলে না। এ রকম অবস্থা থেকে বিআরটিসিকে মুক্ত করা দরকার। বারবার বিআরটিসি লোকসান দেবে তা হবে না। সরকারকে আর কত ভর্তুকি গুণতে হবে? এতগুলো গাড়ি দেওয়ার পরও কেন বিআরটিসিকে লোকসান গুণতে হবে। কোথায় সমস্যা? নিশ্চয়ই শস্যের মধ্যে ভূত আছে। এ লোকসানে বৃত্ত থেকে বিআরটিসিকে বের করে আনতে হবে।’ এদিকে, ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়কের কার্যক্রম প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আবার ঢাকা-সিলেট চারলেন সড়কের কথা বলি। কিন্তু কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই এমন অবস্থা। এ জন্য সিলেটবাসী খুবই অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কাজ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে জনগণ হতাশ হবে। এব্যাপারে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করে এ সমস্যা দ্রুত দূর করতে হবে। আমরা শুরু করে কাজে গতি দিতে পারলে জনগণের হতাশা চলে যাবে।' এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও প্রধান প্রকৌশলী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কাজ শুরু হতেই অনেক দেরি হয়ে যায়। দরপত্র, মূল্যায়ন, ওয়ার্ক অর্ডার প্রক্রিয়া একটু সহজতর করার জন্য আমি প্রধান প্রকৌশলীকে বলবো। অনেকের গাফিলতির জন্য অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়।’

ওবায়দুল কাদের এ সময় জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার ঢাকা-সিলেট-তামাবিল চারলেন সড়কের কাজের খোঁজ খবর নেন। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলবো, এ ব্যাপারে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাঁক এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ ব্লাকস্পটগুলো সরলীকরণ করতে হবে।