হার্ট ছাড়াই ৫৫৫ দিন বেঁচে ছিলেন এই ব্যক্তি!

হার্ট ছাড়াই ৫৫৫ দিন বেঁচে ছিলেন এই ব্যক্তি!

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই অন্যদের চেয়ে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন স্টান লারকিন। তার বেঁচে থাকার গল্প চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের কাছে অনুপ্রেরণা। তবে সাধারণ মানুষের কাছে তা হতবাক করার মতো। এর কারণ হার্ট ছাড়াই এক বছরেরও বেশি সময় বেঁচে ছিলেন তিনি। এমনকি এই সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে হালকা খেলাধূলাও করতে পেরেছেন তিনি।

২০১৬ সালে ২৫ বছর বয়সে নতুন হার্ট পান স্টান লারকিন। কিন্তু তার আগে দাতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পিঠে বহন করেছেন সিন্কআরকাডিয়া ডিভাইস নামের ছোট একটি যন্ত্র। কৃত্রিম হার্টের মতো কাজ করা এই ডিভাইসটি ৫৫৫ দিন পিঠে বহন করেছেন তিনি।

দুই পাশের হার্ট ফেইল করার পর এবং হার্ট সাপোর্টকারী সাধারণ যন্ত্রগুলো যখন রোগীকে বাঁচাতে সক্ষম হয় না তখনই অস্থায়ী হার্ট হিসেবে সিন্কআরকাডিয়া ডিভাইস ব্যবহার হয়ে থাকে। স্টান লারকিন হাসপাতাল ছেড়ে দিয়ে ১৩.৫ পাউন্ড ওজনের বহনযোগ্য ডিভাইসটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ফ্রাঙ্কনেল কার্ডিওভাসকুলার সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে স্টান লারকিন বলেন, ‘এটা (সিন্কআরকাডিয়া ডিভাইস) আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে আর আমাকে এখনকার মতো স্বাস্থ্যবান রেখেছে।’

হার্টের সমস্যা থাকা পরিবারের একমাত্র সদস্য নন স্টান লারকিন। তার বড় ভাই ডোমিনিকেরও কার্ডিওমিয়োপ্যাথি অসুখ ছিলো। এই অসুখে হার্টের পেশিগুলো শরীরে রক্তপরিবহনে অক্ষম হয়ে যায় আর তা থেকে হার্ট ফেলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

তাদের দুই ভাইয়েরই সার্জারি করেন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জোনাথন থাফট। তিনি বলেন, ‘তাদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে যখন প্রথম আমার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে দেখা হয় তখন তারা খুবই অসুস্থ ছিলো। আমরা তাদের হার্ট প্রতিস্থাপন করতে চাইছিলাম কিন্তু দেখলাম যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে না। তাদের কাঠামোর অনন্য অবস্থানের কারণে অন্য কোনও প্রযুক্তিতে কাজ চালানোর উপায় ছিলো না।’

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া