হল খুলছে ১৭ মে, ক্লাস শুরু ২৪ মে

হল খুলছে ১৭ মে, ক্লাস শুরু ২৪ মে

রয়েল ভিউ ডেস্ক :
করোনাভাইরাসের কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা শিক্ষাঙ্গণ আবার চালু হচ্ছে। সাত দফা ছুটি বাড়ানোর পর অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত জানাল সরকার। যদিও স্কুল কলেজের বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল আগামী ১৭ মে থেকে খুলে দেয়া হচ্ছে। ক্লাস শুরু হবে ২৪ মে।
আগামী ১৩ মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো সীমিত পরিসরে কেবল মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত আগে জানানো হয়েছিল, সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ধাপে ধাপে সাত দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সব শেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয় চালুর আগে সব শিক্ষার্থীদেরকে করোনার টিকা দেয়া হবে বলেও সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষামন্ত্রী।
গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে এখন আবার শুরু হয়েছে উল্টো দাবি।
শিক্ষার্থীরা চাইছেন, দ্রুত হলগুলো খুলে দেয়া হোক। এই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরেই সক্রিয়।
এর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয়া একটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রদের সংঘর্ষের পর শনিবার কয়েকটি হলের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা হলে ঢুকে যায়। তাদেরকে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে হল ছাড়তে বলা হলেও তারা তা মানেনি।
এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মো. শহীদুল্লাহ হলেও জোর করে ঢুকে যায় ছাত্ররা।
এর মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠক চলছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে আর আগ্রহের ইঙ্গিত দেন।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিব বলেন, ‘ইউরোপে ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশেই স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা আছে। তো সেসব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইনস্ট্রাকশন দিয়েছেন, বসে চিন্তা ভাবনা করেন যে আমরা খুলে দিতে পারি কি না।’
সচিব জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ৫/৬ দিনের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সচিব বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে মন্ত্রিসভা।’
এর কিছুক্ষণ পরেই সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী।
করোনার সংক্রমণ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এরই মধ্যে। পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে হলেই করোনা নিয়ন্ত্রণে ধরে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশে চার সপ্তাহ ধরেই এটি ৫ শতাংশের নিচে।
এর মধ্যে আবার করোনার গণটিকা প্রয়োগও শুরু হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা দুই লাখের বেশি মানুষ টিকা নিচ্ছে। এর মধ্যে একদিন নিয়েছে দুই লাখ ৬২ হাজারের বেশি।
সব মিলিয়ে সারা দেশে এখন ২০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ টিকা নিয়েছে।